মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা বা চুক্তি করতে “আকুলভাবে আগ্রহী”, তবে এখনো এমন কোনো বাস্তবসম্মত অবস্থানে পৌঁছায়নি যেখানে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, তেহরান একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে, যার ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি থমকে রয়েছে। রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, কিন্তু ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে না আসে, তবে তাকে এর মূল্য আরও বেশি পরিশোধ করতে হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট এবং আঞ্চলিক সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় উভয় দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রই পূর্ববর্তী সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে আস্থা নষ্ট করেছে এবং নতুন কোনো চুক্তির আগে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও পারস্পরিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। তবে রাজনৈতিক অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্যের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনও সীমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
