বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়া থেকে সরিয়ে পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে দেশটি এখন ‘মেনাপ’ পাকিস্তান অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর এই সিদ্ধান্তটি ভৌগোলিক নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাংকের মতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই পশ্চিমমুখী হয়ে উঠছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেন, শ্রমবাজার নির্ভরতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে, কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়; সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তা এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে, যার ফলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে গেছে এবং নতুন এই কাঠামোয় দেশটি এখন মিশর, ইরানসহ মোট ২২টি দেশের সঙ্গে একই গ্রুপে অবস্থান করছে; বিশ্বব্যাংকের ধারণা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম তহবিল এবং বড় আকারের বিনিয়োগ প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সহায়তা প্রবাহিত হতে পারে, তবে এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, তেলের দামের ওঠানামা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে পড়তে পারে; পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় বিশ্বব্যাংকের তহবিল বরাদ্দ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, ফলে নতুন এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য যেমন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, তেমনি সামনে নিয়ে আসছে নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও।
