নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা করেছে ভারত এবং এ ধরনের ব্যবস্থার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল পাস করে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে ভারত, চীনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের নীতি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রুশ তেল তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় দামে পাওয়া গেলে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো বিপুল পরিমাণে তা কিনতে শুরু করে। নয়াদিল্লির যুক্তি, বিপুল জনসংখ্যা ও দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারতীয় শোধনাগারগুলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য যে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে, তার মধ্যে রুশ তেলও রয়েছে। কয়েকটি শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে জ্বালানি ব্যয় এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতোমধ্যে চাপের মুখে থাকায় রুশ তেল আমদানিতে বড় ধরনের বাধা ভারতের পরিশোধনাগারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার বদলে বিদ্যমান লেনদেন শেষ করার জন্য একটি সময়সীমা এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোটা দেওয়ার মতো ছাড় চাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনাকেও জটিল করে তুলতে পারে বলে ভারতীয় বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে। কয়েক মাসের আলোচনার পরও দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। চলতি মাসের শেষ দিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল যুক্তরাষ্ট্রে জি২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রুশ তেল নিয়ে বিরোধ এবং সম্ভাব্য নতুন শুল্ক সেই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
