দামেস্ক — জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞের পর সিরিয়া এখন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শনিবার রাজধানী দামেস্কে এক ঐতিহাসিক সফরের সূচনায় তিনি বলেন, দেশটির সামনে শুধু সংঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগই নয়, বরং এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে যা হবে আরও স্থিতিশীল, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সব সিরিয়ানের জন্য আরও সমৃদ্ধ। গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, টেকসই শান্তি কেবল অস্ত্রের নীরবতার মাধ্যমে অর্জিত হবে না; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যেখানে জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সব সিরিয়ানের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিরিয়ার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি অপরিহার্য, কারণ এখনও কোটি কোটি মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও মৌলিক সেবার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, গুতেরেসের এই সফর শুধু কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং এটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিরিয়াকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং বহু দেশ যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুঁজছে। তবে একই সঙ্গে দেশটি এখনও অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন, নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অসমাপ্ত রাজনৈতিক রূপান্তরের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গুতেরেস বলেন, বর্তমান মুহূর্তটি সিরিয়ার জন্য একটি বিরল সুযোগ, যেখানে অতীতের সংঘাতকে পেছনে ফেলে জাতীয় পুনর্মিলন, টেকসই উন্নয়ন এবং স্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সিরিয়ার নেতৃত্ব, আঞ্চলিক অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বান জানান, যেখানে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি হবে প্রতিটি সিরিয়ানের অভিন্ন অধিকার।
