ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার অবস্থানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার-সংক্রান্ত বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা “নির্ভেজাল ভণ্ডামি”র প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একদিকে মানবাধিকার রক্ষার দাবি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে এমন কর্মকাণ্ডকে সম্ভব করেছে, যা ইরানের বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে তেহরানের দাবি। বাকাই প্রশ্ন তোলেন, মানবাধিকারের প্রতি কথিত অঙ্গীকার কীভাবে এমন সামরিক অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, যেখানে নারী, শিশু ও সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু এসব হামলার নিন্দা করতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং হামলায় নিহত ইরানি শিশু ও বেসামরিক মানুষের প্রতিও কোনো সহানুভূতি প্রকাশ করেনি। তার ভাষায়, এটি কেবল নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ডের নগ্ন উদাহরণ। ইরানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে, অন্যদিকে ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কঠোর বক্তব্য তেহরান ও ব্রাসেলসের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সংলাপ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাকাইয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলো ইরানের সরকারি অবস্থানকে প্রতিফলিত করে; এসব দাবির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাইও তখনো সম্পন্ন হয়নি।
