ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের জনপ্রিয় মাউন্ট ব্রোমো পর্যটন এলাকায় কয়েক দিন ধরে চলা ব্যাপক দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আগ্নেয়গিরির ক্যালডেরার আশপাশে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের হটস্পট শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান গাতোত সুব্রোতো জানিয়েছেন, গত ৩ আগস্ট শুরু হওয়া আগুন রোববার পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ হেক্টর বা ১,৩৬০ একর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে এবং মূল আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্যালডেরার আশপাশে প্রায় ২০ হেক্টর এলাকায় নতুন আগুনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সোমবার আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১২০ জনের বেশি কর্মী, তিনটি পানি ছিটানো হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং অগ্নিনির্বাপণকারী যান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে দুর্গম ও আগুনপ্রবণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে অভিযান জোরদার করেছে। মাউন্ট ব্রোমো একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ; এর বিস্তৃত ‘স্যান্ড সি’ বা বালুর সমুদ্রের মতো ক্যালডেরা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। মাউন্ট ব্রোমো টেংগার সেমেরু ন্যাশনাল পার্কটি ৫০ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত হওয়ায় সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগুনের সূত্রপাতের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তাধীন থাকলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, মানুষের অসতর্কতার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। গাতোত সুব্রোতোর ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের প্রথম শিখা এমন একটি পথের কাছে দেখা যায় যা পর্যটকরা নিয়মিত ব্যবহার করেন। তার ধারণা, কোনো ব্যক্তি সেখানে আগুন জ্বালানোর পর সেটি নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আগুন পুরোপুরি নিভে না যাওয়ায় পরে তা আশপাশের শুকনো উদ্ভিদ ও ঘাসে ছড়িয়ে পড়ে। দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানের সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি আগুনের নতুন উৎস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ৫৫০ হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে যাওয়ায় পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি এবং সংরক্ষিত জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আগুনের প্রধান অংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্যালডেরার আশপাশে নতুন হটস্পটের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে। বিশেষ করে শুষ্ক পরিবেশ, বাতাসের গতি এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখার পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে। মাউন্ট ব্রোমোর এই অগ্নিকাণ্ড ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক ও পর্যটনসম্পদ রক্ষায় মানুষের অসতর্কতা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
