ইয়েমেনে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও ঘটনাপ্রবাহের কারণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্ধারিত একটি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি ইয়েমেনে চলমান ঘটনাবলির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি দায়িত্বশীল ও সমন্বিত পদ্ধতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরান ও ওমান যৌথভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্ধারিত বৈঠকটি হলে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হতো। বাঘাই আরও বলেন, কোনো দায়িত্বশীল দেশই বাইরের কোনো শক্তির চাপ বা নির্দেশনা মেনে চলতে রাজি নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠক স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদি আরব। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পরিস্থিতির সঙ্গে ইরানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি এবং বলেন, তেহরান ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটিকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যখন হুথিরা সৌদি আরবের দিকে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। গত সপ্তাহে সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং হুথিরা মোখা বন্দর দখলে নেওয়ার পর বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সোমবার দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর একটি উন্নত এমকিউ-১ ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন একটি মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি প্রতিহত করা হয়। এদিকে রোববার একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জাহাজটিতে কর্মরত দুই পাকিস্তানি নাগরিকও ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবকে ঘিরে একই সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বৈঠকটি কবে পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
