মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রীন জোনে কিছু সাঁজোয়া ইউনিটের অস্বাভাবিক চলাচলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এসব গুঞ্জনে দাবি করা হয় যে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক ও সামরিক অংশকে শক্তিশালী করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা সীমিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে সাবেক স্পেশাল ফোর্স অপারেটিভ ও সাংবাদিক এলিজাহ ম্যাগনিয়ের ভিন্ন একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরাক সরকার রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে, যা দুর্নীতিবিরোধী ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ইরাকে সক্রিয় ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করা। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাব বলয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে আসছে এবং দেশটির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই দুই শক্তির প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে, যদিও সেগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিকল্প বাণিজ্যিক করিডোর নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনেও নতুন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা সংকট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে আরও অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দাবি ও তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
