যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বি-১বি ল্যান্সার কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘপাল্লার এই ভারী বোমারু বিমান অত্যন্ত শক্তিশালী নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে এবং শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত বাহিনীর হামলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটি থেকে পরিচালিত অভিযানে বি-১বি বিমানগুলো ইরানের অভ্যন্তরে নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে অভিযানটি পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, মিত্র রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে আরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইরানি কর্মকর্তারা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বি-১বি বোমারু বিমানের ব্যবহার কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থানের সুস্পষ্ট কৌশলগত বার্তা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গভীরভাবে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কাতার, ওমানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সামরিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
