মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীন মাত্রায় বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আগামী কয়েক দিনে আরও জোরদার করা হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় ও সমুদ্রতীরবর্তী সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে এবং তিনি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও পরবর্তী ধাপে জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর ওপর হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তার ভাষায়, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে তেহরানের সামনে একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া কার্যত আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে সেটি ভেঙে যায়। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। অতীতে সেখানে বিশেষ ফি আরোপের ধারণা বিবেচনা করা হলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য বৃহৎ বিনিয়োগের কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত কমানো এবং স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে পরিচালিত অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
