উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, জোটের কোনো সদস্য দেশকে সাময়িকভাবে স্থগিত বা বহিষ্কার করার কোনো আইনি বিধান তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে নেই। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে ইরান পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করা ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, জোটের চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীও এসব প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেননি এবং তিনি বলেন, তারা কোনো অনানুষ্ঠানিক ই-মেইলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না বরং আনুষ্ঠানিক নথি ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে কাজ করে, পাশাপাশি স্পেন সবসময় মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে থাকলেও তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই হতে হবে। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ বা অবরোধে যুক্তরাজ্যের সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে একই সময়ে যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়েছে এবং ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্পেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই এবং বার্লিন এ অবস্থান পরিবর্তনের কোনো কারণ দেখছে না। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ন্যাটো মিত্রদের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই জোট ইউরোপীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহলে অভ্যন্তরীণ ই-মেইল বিনিময়ে ন্যাটো মিত্রদের আকাশপথ, ঘাঁটি এবং ওভারফ্লাইট সুবিধা দিতে অস্বীকৃতিকে জোটের ন্যূনতম দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অসহযোগী দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো বিকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ত্যাগ বা ইউরোপীয় ঘাঁটি বন্ধের কোনো প্রস্তাব নেই। এই বিষয়ে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ন্যাটো মিত্রদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে, যাতে জোট কেবল প্রতীকী না থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার শক্ত ভিত্তি হিসেবে কার্যকর থাকে।
