নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রসুয়া জেলার ত্রিশুলি–৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উদ্ধারকারীরা কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে থাকা টানেলের একটি সরু পথ দিয়ে ৩০ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহারজনকে বের করে আনেন। নেপালের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী সুদান গুরুং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একজন শ্রমিক টানেলের ছোট একটি কাদাময় প্রবেশপথ দিয়ে বেরিয়ে আসার পর উদ্ধারকারীরা তাকে দাঁড় করিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আর দ্বিতীয় শ্রমিককে কাদায় ঢাকা অবস্থায় স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের মতে, জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের একজন জানিয়েছেন যে টানেলের ভেতরে আরও মানুষ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন—যা শত শত নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধানে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ আশার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের যে বিপর্যয় নেমে আসে, সেটিকে একটি হিমবাহের আংশিক ধসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে; প্রবল স্রোতের সঙ্গে পানি, পাথর ও কাদামাটি নেমে এসে বিস্তীর্ণ জনপদ ধ্বংস করে দেয় এবং নেপাল ও চীনা নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,২৮৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর তিব্বত অংশে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৪১ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে সরকার আশাবাদী। এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল সরকারের অনুরোধে অস্ট্রেলিয়া ১৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে ড্রোন পরিচালনা ও জরুরি উদ্ধারকাজে অভিজ্ঞ কর্মীরা রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন। ভয়াবহ বিপর্যয়ের নয় দিন পর দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, বরং এখনও নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের স্বজনদের জন্যও নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
