হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর এই গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও নিরাপত্তামূলক অভিযান শুরু হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব বলেছেন, ইরান, ওমান, উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও পরিস্থিতি যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল সীমিত করে দিলে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিক জলপথে আটকা পড়েন, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে এবং প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজের সংঘর্ষ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ধাপে ধাপে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধার করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও নৌপরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই জলপথের স্থিতিশীলতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণ সচল হওয়া বিশ্ববাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনবে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
