ন্যাটো সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা আহমেদ আল-শারা (যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন) এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বৈঠকে ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম প্রত্যাহারের উদ্যোগকে সমর্থন করবেন। এই ঘোষণাকে সিরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বার্তায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘আমার বন্ধু’ এবং রাষ্ট্রদূত টম বারাককে ‘প্রিয় রাষ্ট্রদূত’ বলে সম্বোধন করেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে একই বৈঠকে একটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তও তৈরি হয়। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েলের জন্য তাঁর মতো আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এত কিছু করেননি। তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে গর্ব প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আহমেদ আল-শারার যুদ্ধকালীন নাম ‘আল-জোলানি’ ঐতিহাসিকভাবে গোলান মালভূমির পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণে গোলানের পরিচয় বহনকারী একজন সিরীয় নেতাকে পাশে বসিয়েই ট্রাম্পের গোলান নিয়ে নিজের নীতির প্রশংসা করা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যদিও এ সময় আহমেদ আল-শারা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তাঁর নীরবতাকে কেউ কূটনৈতিক বাস্তবতা, কেউ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের কৌশল, আবার কেউ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে নতুনভাবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে জেরুজালেম ও গোলান মালভূমি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান যে অপরিবর্তিত রয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
