ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক এলাকাজুড়ে ব্যাপক সেনা ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের মধ্যেই সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোন এবং সদর সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। ইরাকি সূত্রের দাবি, তেল মন্ত্রণালয়ের সাবেক আন্ডারসেক্রেটারি আদনান আল-জুমাইলির জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়। তার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার নগদ অর্থ, অস্ত্র এবং স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আজম অ্যালায়েন্সের নেতা মুথান্না আল-সামাররাই, সাবেক অর্থমন্ত্রী তাইফ সামি, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী নাবিল আল-কাজেম, সাবেক তেলমন্ত্রী ইহসান আবদুল জব্বার এবং অন্তত ১৫ জন বর্তমান সংসদ সদস্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দুর্নীতিবিরোধী সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বাগদাদ সফর। সফরকালে তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ), আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। নিরাপত্তা অভিযান ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাগদাদের এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণকেই প্রভাবিত করবে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়ও এর সুদূরপ্রসারী প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
