মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ঘোষণা করেছে যে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা জানিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকি এবং কথিত অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় ও অব্যাহত থাকবে। তেহরান দাবি করেছে, দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করা তাদের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা, অব্যাহত সামরিক চাপ, নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে হুমকি এবং শক্তি প্রয়োগের প্রচেষ্টা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইরান অভিযোগ করেছে, এসব ঘটনার পরও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তেহরান দাবি করেছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত যে যুক্তিগুলো সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবে ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানোর একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইরান জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সংলাপকে গুরুত্ব দিয়ে যাবে। একই সময়ে দেশটি স্পষ্ট করেছে যে, জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পারস্পরিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং কৌশলগত অবস্থান অঞ্চলটিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন; তারা বরাবরই বলে আসছে যে, তাদের সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করা। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও আন্তর্জাতিক মহল নতুন করে সংঘাত এড়াতে সংযম, সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
